দেশেই করোনা সনাক্তকরণ কিট তৈরি করলো গণস্বাস্থ্য

১৮ মার্চ, ২০২০ ০৯:২২  
দেশেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট তৈরি করতে যাচ্ছে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড। এই কিটটির মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে ভাইরাসটির প্রাথমিক উপস্থিতি সনাক্ত করণ খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। সর্বোচ্চ ব্যয় হবে দু’শ টাকা। এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেকের পক্ষে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার জানান, এর আগে ২০০৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার্স (সিভিয়ার রেসপারেটরি সিনড্রোম) ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করে তখন তারা একটি কিট তৈরি করেছিলেন। সার্স এবং নতুন করোনাভাইরাস একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা সহজেই স্বল্প সময়ে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতিমধ্যে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজে কর্মরত ড. বিজন কুমার শীল ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়লজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিহাদ আদনানসহ কয়েকজন এই কিট তৈরির কাজ শুরু করেছেন। আজ বুধবার ‘ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে’ এই কিট উৎপাদন অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়ছে। ডিজিবাংলা-কে তিনি বলেন, যে কিটটি আমরা তৈরি করছি সেটিতে ভাইরাসের বিপরীতে রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসের এন্টিবডির প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে। এজন্য আমাদের সার্ফেস প্রোটিন আমদানি করতে হবে। যেখানে ভাইরাসটির নিউক্লিক এডিস বা সংক্রমণকারী বস্তু থাকবে না। যে পদ্ধতিতে এই কিট তৈরি করা হচ্ছে তাকে বলা হয় ‘ডট ব্লট টেকনোলজি’। এর জন্য স্পুটাম নেয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে সন্দেহজনক ব্যক্তির রক্তের নমুনা নেয়া হবে। সেই রক্ত থেকে ‘সিরাম’ আলাদা করতে হবে। কিটে সেই সিরাম রেখে তার ওপর এন্টিজেনের বিক্রিয়া ঘটানো হবে। যদি বিক্রিয়া হয় তাহলে সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের প্রাথমিক উপস্থিতি রয়েছে বলে প্রমাণ হবে। বিক্রিয়া না করলে তিনি আক্রান্ত নন বলে বিবেচিত হবে। ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার আরো বলেন, এ ধরনের কিট উৎপাদন করতে হাইটেক ল্যাব প্রয়োজন। ইতিমধ্যে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক একটি হাইটেক ল্যাব স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন পেলেই আমার প্রয়োজনীয় উপাদন আমদানি করব। সব মিলিয়ে উৎপাদন করতে আমাদের এক মাস সময় লাগবে। প্রাথমিকভাবে আমার ১০ হাজার ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এই কিট ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই ল্যাবটি ‘তৃতীয় স্তরের’ বায়োসেফটি হতে হবে। এদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, পিসিআর পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ভিজিট কন্ট্রোল র‍্যাপিড ডট ব্লট উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং গণস্বাস্থ্যের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।